উত্তর ইসলামপুরে নিজ জমিতে বালু ফেলে বিপাকে পরিবার, পুকুর ভরাটের অভিযোগ অস্বীকার
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জ শহরের উত্তর ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (পোড়া স্কুল) সংলগ্ন এলাকায় পুকুর ভরাটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন জমির মালিক মো. নাফিজ প্রধান ও তার পরিবার। তার দাবি, তিনি কোনো সরকারি বা অন্যের জমি দখল কিংবা অবৈধভাবে পুকুর ভরাট করেননি; নিজ মালিকানাধীন জমির অংশে বালু ফেলেছেন।
বুধবার দুপুরে অভিযোগের বিষয়ে মো. নাফিজ প্রধান বলেন, “আমি আমার ক্রয় করা দুই শতাংশ জমিতে বালু ফেলেছি। অবৈধভাবে কারও পুকুর বা জমি ভরাট করছি না। পুকুরটিতে মোট ৬৬ শতাংশ জমি রয়েছে। এর মধ্যে আমার ৩৪ শতাংশ জমি কেনা এবং আমার নামে নামজারিও রয়েছে।”
নাফিজ প্রধানের দাবি, পুকুরটিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ময়লা-আবর্জনা ফেলায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছিল। বিশেষ করে পুকুরের পাশেই উত্তর ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও বিঘ্ন ঘটছিল।
তিনি আরও বলেন, পুকুরের পচা ও দূষিত পানির কারণে মশার উপদ্রব বাড়ছিল এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছিল। এসব বিষয় বিবেচনা করেই নিজের মালিকানাধীন জমিতে বালু ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পথচারীদের চলাচলের সুবিধার কথা বিবেচনা করে রাস্তার পাশের কিছু অংশও খালি রাখা হয়েছে বলে জানান নাফিজ।
তবে তার এই কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজন পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ তুলে গত সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনকারীদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নন নাফিজ প্রধান।
তিনি বলেন, “যদি কারও সম্পত্তি নিয়ে দাবি থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করা যেতে পারে। কিন্তু তা না করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে আমি ও আমার পরিবার সামাজিকভাবে বিপাকে পড়েছি।”
নাফিজ প্রধান আরও জানান, অভিযোগের পর এসিল্যান্ড কার্যালয় থেকে সরকারি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে পরিদর্শনকালে তারা কোনো মন্তব্য করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, “আমি যদি অন্যের জায়গা দখল করতাম, তাহলে প্রশাসন অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে পারত। আমার নিজের জায়গায় বালু ফেলেছি। এতে আমি কোনো অন্যায় করিনি।”