চরনিমতলা ব্রিজের দক্ষিণ পাশে মৃত্যুফাঁদে পরিণত সড়ক: আতঙ্কে পথচারী, দ্রুত সংস্কারের দাবি
বিশ্বজিৎ সরকার, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের চরনিমতলা ব্রিজের দক্ষিণ পাশে সড়কের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। রাস্তার একাংশ ধসে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় এবং তার পাশে ময়লা-আবর্জনা ও নির্মাণসামগ্রীর স্তূপ জমে থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সিরাজদিখান-বালুচর সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে রাস্তার কিনারা ভেঙে গিয়ে বড় ধরনের গর্ত তৈরি হয়েছে। গর্তের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ও ভাঙা নির্মাণসামগ্রী। এতে সড়কটি আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। একসঙ্গে অটোরিকশা, রিকশা, মোটরসাইকেল, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলের সময় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন বিপজ্জনক অবস্থা বিরাজ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে এবং বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সামান্য অসতর্কতা বা নিয়ন্ত্রণ হারালেই যানবাহন গর্তে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে।
পথচারী ও এলাকাবাসী জানান, চরনিমতলা ব্রিজ হয়ে বালুচর ও আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক এটি। কিন্তু ভাঙা রাস্তা ও জমে থাকা বর্জ্যের কারণে জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত গর্ত ভরাট, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার এবং সড়কের পাশের আবর্জনা অপসারণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে কোনো সময় প্রাণহানিসহ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. আসিফউল্লাহ জানান, ক্ষুদ্র মেরামতকারী দল ইতোমধ্যে কিছু কাজ সম্পন্ন করেছে। তবে সড়কটির স্থায়ী সমাধানের জন্য বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়কে অবহিত করা হলে তিনি লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে সড়কটি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জনস্বার্থ ও জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি আবারও নিরাপদ চলাচলের উপযোগী করে তুলবে।