জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম: বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার চিরন্তন প্রতীক
নিজেস্ব প্রতিবেদক:
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আজও তাঁর সাহিত্যকর্ম, গান ও আদর্শের মাধ্যমে কোটি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন। বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক হিসেবে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক অনন্য স্থান অধিকার করে আছেন।
১৮৯৯ সালের ২৪ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। শৈশব থেকেই সাহিত্য, সংগীত ও নাটকের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল। পরবর্তীতে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালীন অর্জিত অভিজ্ঞতা তাঁর সাহিত্যকর্মে নতুন মাত্রা যোগ করে।
১৯২২ সালে প্রকাশিত তাঁর কালজয়ী কবিতা বিদ্রোহী তাঁকে বিদ্রোহী কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। শোষণ, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর লেখনী ছিল আপসহীন। অগ্নিবীণা, সাম্যবাদী, দোলনচাঁপা সর্বহারা সহ অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। পাশাপাশি তিনি প্রায় চার হাজার গান রচনা ও সুরারোপ করেন, যা আজ ‘নজরুলগীতি’ নামে পরিচিত।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবতার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন নজরুল। তাঁর সাহিত্য ও সংগীতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সমতার আহ্বান উঠে এসেছে। ব্রিটিশবিরোধী লেখালেখির কারণে তাঁকে কারাবরণ করতে হলেও তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান থেকে কখনো সরে আসেননি।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সপরিবারে দেশে এনে জাতীয় কবির মর্যাদা প্রদান করে। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
সাহিত্য বিশ্লেষকদের মতে, কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সংগীত শুধু একটি সময়ের নয়, বরং সব যুগের মানুষের জন্য প্রেরণার উৎস। স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সাম্য এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে থাকবে।