
সিরাজদিখানে মাছ-মাংস ও ডিমের দামে অস্বস্তি, নাভিশ্বাস ক্রেতাদের
মোঃ রুবেল বেপারী, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। মাছ, মাংস ও ডিমের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রোটিনের বাজার এখন সাধারণ ও নিম্ন-আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজারে ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ মিলছে না, অন্যদিকে ডিম ও মুরগির বাড়তি দামেও সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।
সরেজমিনে সিরাজদিখানের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে মাংসের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকায়। পাশাপাশি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে। ডিমের বাজারেও নেই স্বস্তি; বাজারে সাদা ডিম প্রতি ডজন ১৩০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও পাড়া-মহল্লার দোকানে তা গিয়ে ঠেকছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়।
মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায় আরও চড়া চিত্র। সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি রুই ও কাতলা ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা এবং বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ট্যাংরা ৬০০ টাকা, চাষের শিং ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের কই ২৫০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ও শোল মাছ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নদী ও সামুদ্রিক মাছের দাম সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বাজারে রূপচাঁদা ও নদীর বেলে মাছ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকার বেশি দরে। চিংড়ির কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। এছাড়া ইলিশের বাজারে ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রায় ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় বাজার তদারকি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রেতারা।