
শিবা শানু–জয়ের জয়ে নতুন নেতৃত্বে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, ভোট উৎসবে মুখর এফডিসি
বিনোদন ডেস্ক:
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন শেষে নতুন নেতৃত্ব পেয়েছে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গন। শুক্রবার (৩ জুলাই) দিনভর রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)-এ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এফডিসি প্রাঙ্গণ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শনিবার (৪ জুলাই) ভোররাতে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে।
সভাপতি পদে ২৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন শিবা শানু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরমান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে ২৩৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন জয়, আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।
সহ-সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন ইলিয়াস কোবরা (২১৬ ভোট) ও ডিএ তায়েব (২০৬ ভোট)। একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চিত্রনায়িকা রোজিনা পেয়েছেন ১৫২ ভোট এবং নূতন পেয়েছেন ১০৪ ভোট।
সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ২৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন চিত্রনায়ক সুব্রত। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিনা খান পেয়েছেন ১৫০ ভোট। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ২৩৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন সনি রহমান। একই পদে চুন্নু পেয়েছেন ১৮৩ ভোট।
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ২৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এম এ পারভেজ চৌধুরী আবীর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী পলি পেয়েছেন ১৪৪ ভোট। দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন জ্যাকি আলমগীর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রাসেল মিয়া পেয়েছেন ১৯৫ ভোট।
সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে ২২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মারুফ আকিব। প্রতিদ্বন্দ্বী মোসফেকুল জামিল (কাকন) পেয়েছেন ১১৮ ভোট এবং ইউসুফ খান পেয়েছেন ৭২ ভোট।
কোষাধ্যক্ষ পদে ২২১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন কামরুজ্জামান কমল। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জাদু আজাদ পেয়েছেন ১৯৭ ভোট।
এছাড়া কার্যকরী পরিষদের ১১টি সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন কায়েস আরজু, আলীবরাজ, নাসরিন, জেসমিন আক্তার, সুশান্ত, শিপন মিত্র, শামীম খান (চিকন আলী), রাকা, শিরিন শিলা, কাবিলা ও ফরহাদ।
এবারের নির্বাচনে মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ২১টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৪৫ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চলচ্চিত্র প্রযোজক কামাল মোহাম্মদ কিবরিয়া লিপু।
নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি আরও শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও শিল্পীবান্ধব সংগঠনে পরিণত হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। ভোটের লড়াই শেষে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ও নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেছে।