
ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে নতুন ট্রেন, কমবে যাতায়াত ব্যয় গতি পাবে কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতি
রবিন মোড়ল,স্টাফ রিপোর্টার:
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে যাত্রা শুরু করেছে নতুন কমিউটার ট্রেন ‘অভিযাত্রী কমিউটার’। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেনটির উদ্বোধন করা হয়। নতুন এই রেলসেবা চালুর ফলে গোপালগঞ্জসহ আশপাশের জেলার মানুষের রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি কৃষক ও উৎপাদকেরাও এর সুফল পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ চালুর ফলে গোপালগঞ্জ ও মধ্যবর্তী এলাকার মানুষ তুলনামূলক কম খরচে ঢাকায় যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। কর্মজীবীদের জন্য প্রতিদিন রাজধানীতে এসে কাজ শেষে নিজ এলাকায় ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের নিয়মিত যাতায়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে নতুন এই ট্রেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য রেল যোগাযোগ বাড়লে কর্মসংস্থান ও শিক্ষার প্রয়োজনে ঢাকামুখী স্থায়ী বসবাসের চাপ কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে রাজধানীর যানজট, আবাসন ও নাগরিক সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে এই রেলসেবা। গোপালগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার শাকসবজি, মাছসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে রাজধানীর বাজারে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে কৃষক ও উৎপাদকরা ভালো বাজার পাওয়ার পাশাপাশি ঢাকার ভোক্তারাও স্থানীয় পণ্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে কৃষিপণ্য উৎপাদন, পরিবহন, বিপণন ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চারিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ উদ্বোধন করেন। এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, নিরাপদ, সাশ্রয়ী, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব রেলসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই নতুন এই কমিউটার চালু করা হয়েছে। পর্যাপ্ত কোচ ও লোকোমোটিভের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিনের মধ্যেই ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ট্রেনটি চালু করা সম্ভব হয়েছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, ১৩৫ নম্বর অভিযাত্রী কমিউটার ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিকেল সাড়ে ৩টায় গোপালগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে গোপালগঞ্জে পৌঁছাবে। অন্যদিকে ১৩৬ নম্বর অভিযাত্রী কমিউটার গোপালগঞ্জ থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। ৮টি কোচের ট্রেনটিতে মোট ৬৩০টি আসন রয়েছে। ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত ১৪৮ কিলোমিটার পথে ট্রেনটি সাতটি স্টেশনে থামবে। স্টেশনগুলো হলো কেরানীগঞ্জ, শ্রীনগর, মাওয়া, ভাঙ্গা জংশন, নগরকান্দা, মহেশপুর ও কাশিয়ানী জংশন। প্রতি শনিবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে। প্রথম যাত্রাকে ঘিরে গোপালগঞ্জবাসীর মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। উদ্বোধনী যাত্রায় গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে ট্রেনে যাত্রা করেন। পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ চালু হওয়াকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। গোপালগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, নতুন এই রেলসেবা শুধু রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করবে না, বরং মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে তৈরি করবে নতুন গতি।